মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং, সন্ধ্যা ৭:৪৪
শিরোনাম :
দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ে তুলতে পারিবারিক সচেতনতার বিকল্প নেই:রাষ্ট্রপতি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের ভারতের আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীর দক্ষিণ বঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পরিবহন সাকুরা,দেখলেই জনমনে আতঙ্ক ! আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ইসলামী আন্দোলন নেতার সাংগঠনিক সব পদ স্থগিত নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পাচ্ছে ১০ ইউনিট বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়মের ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরনের শ্রমিক-কর্মচারীরা মাদ্রাসাগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ, সাহায্য করবে সরকার ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাইলে তা ‘যৌতুক’ নয়: হাইকোর্ট কোনো মেয়ের স্বপ্ন যেন অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বা বৈষম্যের কারণে থেমে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

তুমি কি রাতে আদৌ ঘুমাও? সৌদি যুবরাজকে ট্রাম্পের প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক ।। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) নেতৃত্বে সৌদি আরবকে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি যুবরাজকে ব্যতিক্রমধর্মী এক প্রশ্নও করেন— ‘তুমি কি রাতে আদৌ ঘুমাও?’

সৌদি রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে বুধবার (স্থানীয় সময়) দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, ‘মোহাম্মদ, তুমি কি রাতে ঘুমাও? কীভাবে ঘুমাতে পারো তুমি?’— এই প্রশ্নে তিনি সৌদি আরবের ডি-ফ্যাক্টো শাসকের কঠোর পরিশ্রম ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমাদের অনেকের মতোই সারা রাত এপাশ-ওপাশ করেন এই চিন্তায়— কীভাবে আরও ভালো করা যায়। যারা রাতে এমন করে না, তারা কখনও আপনাকে প্রতিশ্রুত ভূমিতে নিয়ে যেতে পারবে না।’

৭৮ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডন্ট বলেন, ‘সমালোচকেরা ভেবেছিল সৌদির উত্থান সম্ভব নয়। কিন্তু গত আট বছরে সৌদি আরব তাদের ভুল প্রমাণ করেছে। কী দারুণ কাজ করেছে যুবরাজ! আমি তাকে পছন্দ করি, সত্যিই অনেক বেশি পছন্দ করি।’

ট্রাম্পের এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় যুবরাজ বিন সালমান হাসেন এবং দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প জানান, এমবিএস ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের অনুরোধে তিনি সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছেন। এ সময় রসিকতার সুরে বলেন, ‘আহ, যুবরাজের জন্য আমি কত কিছুই না করি!’

বক্তব্যে তিনি সৌদি আরবকে ‘বিশ্বের কেন্দ্র’ বলেও অভিহিত করেন। তবে সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি কিংবা ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।

সম্মেলনে ট্রাম্প ১৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের সৌদি বিনিয়োগ প্যাকেজের কথা তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প ও এমবিএসের সম্পর্ক মূলত অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ট্রাম্প যেখানে বড় অর্থনৈতিক সাফল্য ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরুত্থান চান, সেখানে যুবরাজ খুঁজছেন উন্নত প্রযুক্তি, সামরিক সহায়তা ও আঞ্চলিক নেতৃত্বের জন্য একটি শক্তিশালী মিত্র।

তবে এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। তাদের মতে, এই সম্পর্ক অর্থনৈতিক স্বার্থকে মানবাধিকারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।